ভূমিকা
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান বর্ণনা কর—এটি স্কুল, কলেজ, অনার্স এবং চাকরির পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। নদী, সমতল ভূমি, পাহাড়, বন ও সমুদ্র মিলে এর ভূপ্রকৃতি তৈরি হয়েছে। দেশের অবস্থান বুঝলে এর জলবায়ু, কৃষি, নদ–নদী ও অর্থনীতি সম্পর্কেও সহজে ধারণা পাওয়া যায়।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান কোথায়?
বাংলাদেশ এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ অংশে এবং দক্ষিণ এশিয়ার পূর্বদিকে অবস্থিত। দেশটি ২০°৩৪′ থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১′ থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে বিস্তৃত। বাংলাদেশের দক্ষিণে রয়েছে বিশাল বঙ্গোপসাগর। এই অবস্থান দেশটির প্রকৃতি ও মানুষের জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব ফেলেছে।
অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশের অবস্থান
কোনো দেশের পৃথিবীর বুকে সঠিক অবস্থান বোঝাতে অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশের অবস্থানও এই দুই মানের মাধ্যমে নির্ধারণ করা যায়। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান নির্ধারণের প্রধান তথ্যগুলো হলো:
উত্তর অক্ষাংশ: ২০°৩৪′ থেকে ২৬°৩৮′
পূর্ব দ্রাঘিমাংশ: ৮৮°০১′ থেকে ৯২°৪১′
দক্ষিণে: বঙ্গোপসাগর
দক্ষিণ এশিয়ার পূর্বাংশে: বাংলাদেশ
এই অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ উষ্ণ ও মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব পায়।
বাংলাদেশের সীমানা ও প্রতিবেশী দেশ
বাংলাদেশের তিন দিকে স্থলসীমা এবং দক্ষিণে জলসীমা রয়েছে। পশ্চিম, উত্তর ও পূর্বের বিভিন্ন অংশে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব দিকে মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে। আর দক্ষিণে বিস্তৃত বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের প্রাকৃতিক জলসীমা তৈরি করেছে।
| দিক | বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী দেশ বা জলভাগ |
| উত্তর | ভারত |
| পশ্চিম | ভারত |
| পূর্ব | ভারত ও মিয়ানমার |
| দক্ষিণ | বঙ্গোপসাগর |
| উত্তর-পূর্ব | ভারতের আসাম ও মেঘালয় |
| দক্ষিণ-পূর্ব | ভারতের ত্রিপুরা ও মিজোরাম এবং মিয়ানমার |
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের বিশেষ বৈশিষ্ট্য
বাংলাদেশের অবস্থানের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর নদী ও বদ্বীপভূমি। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর প্রবাহ এ দেশের ভূপ্রকৃতি গঠনে বড় ভূমিকা রেখেছে। নদীর বয়ে আনা পলি জমে বিস্তীর্ণ উর্বর ভূমি তৈরি হয়েছে। তাই বাংলাদেশের গ্রাম, কৃষি ও জনজীবনের সঙ্গে নদীর সম্পর্ক খুব গভীর।
কর্কটক্রান্তি রেখা ও বাংলাদেশ
কর্কটক্রান্তি রেখা বাংলাদেশের মধ্যভাগের কাছ দিয়ে অতিক্রম করেছে। এর অবস্থান দেশের তাপমাত্রা ও জলবায়ুর ওপর প্রভাব ফেলে। সূর্যের তাপ, মৌসুমি বায়ু এবং বঙ্গোপসাগরের প্রভাব মিলিয়ে বাংলাদেশে একটি উষ্ণ মৌসুমি জলবায়ু দেখা যায়। ফলে এখানে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টি হয় এবং কৃষিকাজে তার বড় ভূমিকা থাকে।
বাংলাদেশের আয়তন ও ভূপ্রকৃতি
বাংলাদেশের মোট আয়তন প্রায় ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার। দেশটির বেশিরভাগ অংশ সমতল ও নদীবাহিত ভূমি। তবে দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব দিকে পাহাড়ি অঞ্চল রয়েছে। দক্ষিণে রয়েছে দীর্ঘ উপকূল, চরাঞ্চল ও সুন্দরবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক এলাকা।
বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতিকে সহজভাবে তিন ভাগে দেখা যায়:
প্লাবন সমভূমি ও নদীবাহিত সমতল ভূমি
পাহাড়ি অঞ্চল
উপকূলীয় অঞ্চল
এই বৈচিত্র্য দেশের কৃষি, বসতি, যোগাযোগ ও অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে।
আরো পড়ুন : দমন এর বিপরীত শব্দ কী? অর্থ, বাক্য ও সহজ উদাহরণ
বাংলাদেশের বদ্বীপ অঞ্চল
বাংলাদেশ বিশ্বের বৃহত্তম বদ্বীপ ব্যবস্থার একটি বড় অংশজুড়ে অবস্থিত। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর পলি বহু বছর ধরে জমে এই বদ্বীপ গড়ে উঠেছে। তাই বাংলাদেশের মাটি অনেক স্থানে খুব উর্বর। এই কারণে ধান, পাট, সবজি ও নানা ধরনের ফসল উৎপাদনে দেশের প্রাকৃতিক সুবিধা রয়েছে।

বাংলাদেশের নদীমাতৃক বৈশিষ্ট্য
বাংলাদেশকে নদীমাতৃক দেশ বলা হয়। দেশের ভেতর দিয়ে অসংখ্য নদী, শাখা নদী ও উপনদী প্রবাহিত হয়েছে। পদ্মা, যমুনা, মেঘনা, তিস্তা ও কর্ণফুলীসহ অনেক নদী দেশের জীবন ও অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত। নদী একদিকে কৃষি ও যোগাযোগে সহায়তা করে, অন্যদিকে বর্ষায় বন্যার কারণও হতে পারে।
পাহাড়ি ও উপকূলীয় অঞ্চল
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বে চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চল এবং উত্তর-পূর্বে সিলেটের কিছু পাহাড়ি এলাকা রয়েছে। এসব অঞ্চলে বন, পাহাড়ি ঝরনা ও বৈচিত্র্যময় উদ্ভিদ দেখা যায়। দেশের দক্ষিণে রয়েছে উপকূলীয় অঞ্চল এবং বঙ্গোপসাগর। এই উপকূল বাংলাদেশের মাছ, লবণ, নৌবাণিজ্য ও পর্যটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা
বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর থাকায় দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক অবস্থান তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের আঞ্চলিক সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল এবং একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত। সমুদ্রসীমা দেশের মৎস্যসম্পদ, নৌবাণিজ্য ও সামুদ্রিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের গুরুত্ব
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান শুধু মানচিত্রের একটি স্থান নির্দেশ করে না। এই অবস্থান দেশের কৃষি, জলবায়ু, নদী, বাণিজ্য ও মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে। দক্ষিণে সমুদ্র থাকায় আন্তর্জাতিক নৌপথের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। আবার নদী ও উর্বর মাটি দেশের কৃষিকে শক্তিশালী করেছে।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের প্রভাব
দেশের অবস্থানের কারণে বাংলাদেশে বর্ষা, নদীর প্রবাহ ও উর্বর পলিমাটির প্রভাব স্পষ্ট। একই সঙ্গে উপকূলীয় অবস্থানের কারণে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিও থাকে। অর্থাৎ বাংলাদেশের ভূগোল একদিকে যেমন অনেক প্রাকৃতিক সুবিধা দিয়েছে, অন্যদিকে কিছু প্রাকৃতিক ঝুঁকিও তৈরি করেছে।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের অর্থনৈতিক প্রভাব
বাংলাদেশের অবস্থান দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখে। উর্বর সমভূমি কৃষির জন্য উপযোগী। বঙ্গোপসাগর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সুযোগ বাড়িয়েছে। নদী, সমুদ্র ও স্থলপথ মিলিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে।
কৃষির ওপর ভৌগোলিক অবস্থানের প্রভাব
বাংলাদেশের উর্বর পলিমাটি কৃষির জন্য একটি বড় সুবিধা। নদীর মাধ্যমে আসা পলি জমিতে নতুন উর্বরতা তৈরি করে। পর্যাপ্ত বৃষ্টি ও উষ্ণ জলবায়ুও ফসল উৎপাদনে সহায়তা করে। তাই ধান, পাট, গম, সবজি ও বিভিন্ন ফল উৎপাদনে দেশের ভৌগোলিক অবস্থানের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।
জলবায়ুর ওপর অবস্থানের প্রভাব
বাংলাদেশের জলবায়ু মূলত উষ্ণ ও মৌসুমি। বঙ্গোপসাগর থেকে আসা মৌসুমি বায়ু দেশে প্রচুর জলীয়বাষ্প নিয়ে আসে। বর্ষাকালে তাই বৃষ্টিপাত বেড়ে যায়। শীতকালে তুলনামূলক শুষ্ক ও ঠান্ডা আবহাওয়া দেখা যায়।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভৌগোলিক অবস্থান
বাংলাদেশের অবস্থান যেমন সুবিধা দিয়েছে, তেমনি কিছু ঝুঁকিও তৈরি করেছে। দেশের নিচু সমভূমি ও উপকূলীয় অবস্থানের কারণে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙন দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকার মানুষ এসব দুর্যোগের প্রভাব বেশি অনুভব করেন। তাই বাংলাদেশের ভূগোল বুঝতে সুবিধা ও ঝুঁকি—দুই দিকই জানা জরুরি।
সুন্দরবন ও বাংলাদেশের ভৌগোলিক পরিচয়
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত সুন্দরবন দেশের ভৌগোলিক পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি বিশ্বের বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনগুলোর একটি। সুন্দরবন উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সময় এই বন প্রাকৃতিক প্রতিরোধক হিসেবেও কাজ করে।
বাংলাদেশের স্থলসীমা
বাংলাদেশের স্থলসীমার বড় অংশ ভারতের সঙ্গে যুক্ত। উত্তরে পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম রয়েছে। পশ্চিমে প্রধানত পশ্চিমবঙ্গ এবং পূর্বদিকে ত্রিপুরা, মিজোরাম ও আসামের অংশ রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্য
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের পাঁচটি রাজ্যের সীমান্ত রয়েছে। এগুলো হলো পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম। এই সীমান্ত বাংলাদেশের বাণিজ্য, যোগাযোগ ও আঞ্চলিক সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগও রয়েছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের সীমান্ত
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে মিয়ানমারের সঙ্গে স্থলসীমান্ত রয়েছে। সীমান্তের কাছাকাছি পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি দেখা যায়। এই অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি দেশের অন্যান্য সমতল এলাকার তুলনায় আলাদা। ফলে বাংলাদেশের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য আরও স্পষ্ট হয়।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও যোগাযোগ
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত। এর পশ্চিমে ভারত এবং পূর্বে ভারত ও মিয়ানমার থাকায় স্থল যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে। দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর থাকায় সমুদ্রপথেও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্ভব। ফলে স্থল, নৌ ও সমুদ্র যোগাযোগ দেশের বাণিজ্য ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পরীক্ষায় লেখার জন্য সংক্ষিপ্ত উত্তর
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান বর্ণনা কর প্রশ্নের উত্তরে প্রথমে দেশের অবস্থান ও অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশ লিখতে হবে। এরপর প্রতিবেশী দেশ, বঙ্গোপসাগর, আয়তন ও ভূপ্রকৃতি উল্লেখ করা যায়। শেষে কৃষি, জলবায়ু, বাণিজ্য ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর অবস্থানের প্রভাব লিখলে উত্তরটি পূর্ণতা পায়।
পরীক্ষায় লেখার সময় নিচের বিষয়গুলো মনে রাখা সহজ:
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত।
২০°৩৪′–২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষাংশে বিস্তৃত।
৮৮°০১′–৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত।
উত্তরে, পশ্চিমে ও পূর্বের বেশিরভাগ অংশে ভারতের সীমান্ত।
দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমার।
দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর।
আয়তন প্রায় ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার।
বাংলাদেশ বৃহৎ বদ্বীপ অঞ্চলের অংশ।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে প্রশ্ন কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থান সম্পর্কে প্রশ্ন স্কুল ও কলেজের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় দেখা যেতে পারে। কারণ এই একটি বিষয়ের সঙ্গে দেশের জলবায়ু, কৃষি, নদী, বাণিজ্য ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্পর্ক রয়েছে। তাই শুধু অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ মুখস্থ না করে অবস্থানের প্রভাবও বোঝা ভালো।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান বর্ণনা কর অনার্স ১ম বর্ষের জন্য
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান বর্ণনা কর অনার্স ১ম বর্ষ পর্যায়ের প্রশ্ন হলে উত্তরে কিছুটা বিশ্লেষণ যোগ করা উচিত। দেশের অবস্থান, ভূপ্রকৃতি, নদী ব্যবস্থা, জলবায়ু, উপকূল এবং প্রতিবেশী দেশ সম্পর্কে ধারাবাহিকভাবে লিখতে হবে। এরপর এই অবস্থান কীভাবে অর্থনীতি ও জনজীবনকে প্রভাবিত করে, তা ব্যাখ্যা করা যায়।
বাংলার ভৌগোলিক অবস্থান বর্ণনা করো
বাংলার ভৌগোলিক অবস্থান বর্ণনা করো—এই ধরনের প্রশ্নে ঐতিহাসিক বাংলার ভৌগোলিক পরিসর ও বর্তমান বাংলাদেশের অবস্থান এক করে দেখা উচিত নয়। বর্তমান বাংলাদেশের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার পূর্ব অংশে। নদী ও বদ্বীপের প্রভাব এখানকার ভূপ্রকৃতির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।
ভৌগোলিক অবস্থান কাকে বলে?
কোনো স্থান পৃথিবীর কোথায় অবস্থিত তা নির্দিষ্ট করে বোঝানোর পদ্ধতিকে ভৌগোলিক অবস্থান বলা হয়। সাধারণত অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশের মাধ্যমে একটি স্থানের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। এর পাশাপাশি কোনো দেশের প্রতিবেশী দেশ, সমুদ্র, পাহাড় ও প্রাকৃতিক সীমানাও তার ভৌগোলিক পরিচয় বুঝতে সাহায্য করে।
এক নজরে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান
| বিষয় | তথ্য |
| মহাদেশ | এশিয়া |
| অঞ্চল | দক্ষিণ এশিয়া |
| উত্তর অক্ষাংশ | ২০°৩৪′–২৬°৩৮′ |
| পূর্ব দ্রাঘিমাংশ | ৮৮°০১′–৯২°৪১′ |
| দক্ষিণে | বঙ্গোপসাগর |
| পশ্চিমে | ভারত |
| পূর্বে | ভারত ও মিয়ানমার |
| আয়তন | প্রায় ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার |
| আঞ্চলিক সমুদ্রসীমা | ১২ নটিক্যাল মাইল |
| EEZ | ২০০ নটিক্যাল মাইল |
| প্রধান ভূপ্রকৃতি | সমভূমি, পাহাড় ও উপকূল |
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের সারসংক্ষেপ
সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। দেশের অধিকাংশ অংশ নদীবাহিত সমভূমি হলেও পাহাড় ও উপকূলও এর ভূপ্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বঙ্গোপসাগর, নদী ও উর্বর পলিমাটি দেশের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় ও নদীবিধৌত অবস্থানের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও রয়েছে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQs)
বাংলাদেশ কোন অক্ষাংশে অবস্থিত?
বাংলাদেশ ২০°৩৪′ থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত। এই অবস্থান দেশটির জলবায়ু ও ঋতু বৈচিত্র্যে ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশ কোন দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত?
বাংলাদেশ ৮৮°০১′ থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। অক্ষাংশের সঙ্গে দ্রাঘিমাংশ মিলিয়েই দেশের সঠিক ভৌগোলিক অবস্থান বোঝানো হয়।
বাংলাদেশের উত্তরে কোন দেশ?
বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয় রাজ্যের বিভিন্ন অংশ রয়েছে।
বাংলাদেশের দক্ষিণে কী রয়েছে?
বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। দেশের সমুদ্রবন্দর, মৎস্যসম্পদ ও সামুদ্রিক বাণিজ্যে এই জলভাগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
বাংলাদেশের আয়তন কত?
বাংলাদেশের মোট আয়তন প্রায় ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার।
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কয়টি রাজ্যের সীমান্ত রয়েছে?
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের পাঁচটি রাজ্যের সীমান্ত রয়েছে। এগুলো হলো পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম।
বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা কত?
বাংলাদেশের আঞ্চলিক সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল এবং একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল বা EEZ ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলাদেশের অবস্থান দেশের কৃষি, জলবায়ু, নদী, মৎস্য, বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় সরাসরি প্রভাব ফেলে। একই সঙ্গে এই অবস্থান বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক ঝুঁকির সঙ্গেও যুক্ত।
উপসংহার
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান বর্ণনা কর প্রশ্নের উত্তর শুধু কয়েকটি সংখ্যা দিয়ে শেষ হয় না। বাংলাদেশের নদী, সমভূমি, পাহাড়, উপকূল ও বঙ্গোপসাগর মিলেই এর স্বতন্ত্র ভূগোল তৈরি হয়েছে। এই অবস্থান দেশের কৃষি ও অর্থনীতিতে যেমন সুযোগ তৈরি করেছে, তেমনি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও বাড়িয়েছে। তাই বাংলাদেশের ভূগোল বুঝতে হলে মানচিত্রের পাশাপাশি প্রকৃতি ও মানুষের জীবনকেও একসঙ্গে দেখতে হবে।
