হঠাৎ স্বর্ণের দামে বড় পতন, যা ৩০ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন

আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক বাজারে আরও কমল সোনার দাম। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ০ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি ট্রয় আউন্স ৪ হাজার ২৮৭ দশমিক ৬৯ ডলারে নেমেছে।

এর আগের দিনও সোনার দামে বড় পতন হয়েছিল। সোমবার সোনার দাম নেমেছিল ৭ আগস্টের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে। অর্থাৎ প্রায় এক মাসের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার সবচেয়ে কম দাম দেখা যাচ্ছে এখন।

বিশ্ববাজারের সঙ্গে বাংলাদেশে সোনার দামের পার্থক্য কত?
যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসের দামও কমেছে। মঙ্গলবার মার্কিন গোল্ড ফিউচারস ০ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩২৮ দশমিক ১০ ডলারে দাঁড়ায়।

কেন কমছে সোনার দাম
বাজারে সোনার ওপর চাপ তৈরির অন্যতম কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি।

তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নিয়ে প্রত্যাশায়।

সোনা কিনে লাভবান হওয়ার উপায়
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নিয়ে সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে বিশ্ববাজার। দুইদিনের বৈঠক শেষে আগামী বুধবার ফেড তাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত জানাবে।

বাজারে ধারণা, ফেড ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার বাড়াতে পারে। তাতে নীতিগত সুদের হার ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে যেতে পারে।

সুদের হার বাড়লে সাধারণত সোনার ওপর চাপ তৈরি হয়। কারণ সোনা কোনো সুদ দেয় না।

অন্যদিকে, সুদবাহী সম্পদে বিনিয়োগ করলে বিনিয়োগকারীরা সুদের আয় করতে পারেন। ফলে সুদের হার বাড়ার সময় সোনা ধরে রাখার সুযোগব্যয় বেড়ে যায়।

এ কারণেই সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা সোনার বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ছে
সোনার বাজারে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি। সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা মূল্য বেড়েছে।

মূল্যস্ফীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মূল সূচকও চার মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। এতে বাজারে সুদের হার নিয়ে আরও সতর্ক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দীর্ঘ সময় সুদের হার তুলনামূলক বেশি রাখতে হতে পারে। এমন আশঙ্কা তৈরি হলে সোনার মতো সুদবিহীন সম্পদে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যায়।

বিশ্ববাজারে সোনার ভরি কত টাকা?
প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৮৭ দশমিক ৬৯ ডলার হলে প্রতি ভরি সোনার দাম আন্তর্জাতিক বাজার অনুযায়ী প্রায় ১ হাজার ৬০৭ দশমিক ৯১ মার্কিন ডলার প্রায়। বাংলাদেশি মুদ্রায় রূপান্তর করলে (১ ডলার = ১২৩ টাকা ধরে) এর মূল্য দাঁড়ায় আনুমানিক ১ লাখ ৯৭ হাজার ৮০০ টাকা।

(১ ট্রয় আউন্স = ৩১ দশমিক ১০৩৫ গ্রাম; ১ ভরি = ১১ দশমিক ৬৬৩৮ গ্রাম)

অর্থাৎ আন্তর্জাতিক স্পট দরে প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৯৭ হাজার ৮০০ টাকা প্রায়। সূত্র: রয়টার্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *