আবহাওয়াপশ্চিমবঙ্গভারতচাকরিরাশিফলআইপিএলআধ্যাত্মিকটাকা পয়সাস্বাস্থ্যলাইফস্টাইলমিউচুয়াল ফান্ডব্যবসাঅন্যান্যশেয়ার বাজারটিভি সিরিয়াল

কোন মসজিদে ইফতারে বিরিয়ানি দেবে জানবেন যেভাবে

By newsdhaka

Published on: February 22, 2026

Follow Us

কোথায় বিরিয়ানি দিবে

---Advertisement---

বিরিয়ানি দিবে

রমজান মাস এলেই ভোজনরসিক বাঙালিদের হৃদয়ে এক অন্যরকম দোলা লাগে। ভাজাপোড়া আর শরবতের প্রথাগত ইফতারের বাইরেও আমাদের সবার অবচেতন মন একটি জিনিসের জন্য মুখিয়ে থাকে—সেটি হলো মসজিদের তবারক বা ইফতারের বিরিয়ানি। বাঙালির বিরিয়ানি-প্রীতি নতুন কিছু নয়, তবে সেই ভালোবাসাকে প্রযুক্তির মোড়কে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তরুণ শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের প্রিন্স। তার উদ্ভাবিত ‘বিরিয়ানি দিবে’ অ্যাপটি এখন ইন্টারনেটে রীতিমতো ভাইরাল। আপনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই চমৎকার উদ্ভাবনটি নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রবন্ধ নিচে তুলে ধরা হলো: বিরিয়ানি-প্রীতি ও প্রযুক্তির মেলবন্ধন: এবার অ্যাপে জানা যাবে ‘কোথায় বিরিয়ানি দিবে’ বাঙালি

মানেই মাছে-ভাতে আবেশ। কিন্তু উৎসব আর আবেগের কথা যদি আসে, তবে বিরিয়ানি সব কিছুকে ছাপিয়ে যায়। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে পাড়ায় পাড়ায় মসজিদে আসর বা মাগরিবের নামাজের পর যে বিরিয়ানি বা তেহারি বিতরণ করা হয়, তার স্বাদ যেন অমৃত। এই বিরিয়ানি খোঁজার চিরাচরিত আকাঙ্ক্ষাকে সহজ করতে এবং ভোজনরসিকদের সুবিধার্থে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এক যুগান্তকারী সমাধান নিয়ে এসেছেন এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। ‘বিরিয়ানি দিবে’ অ্যাপের নেপথ্যে যে কারিগর রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (IUBAT)-এর কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মেধাবী ছাত্র আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের প্রিন্স। চলতি বছরের রোজার শুরুতেই তিনি তার উদ্ভাবনী শক্তির পরিচয় দিয়েছেন। তিনি তৈরি করেছেন ‘বিরিয়ানি দিবে’ নামক একটি বিশেষ অ্যাপ ও ওয়েবসাইট, যা বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রিন্সের মতে, এটি মূলত একটি ‘ফান প্রজেক্ট’ হিসেবে শুরু হলেও এর উপযোগিতা এখন আকাশচুম্বী। বিরিয়ানি

প্রেমীদের দীর্ঘদিনের এক অঘোষিত সমস্যা ছিল—ঠিক কোন মসজিদে আজ ভালো ইফতার বা বিরিয়ানি দিচ্ছে, তা আগে থেকে জানতে না পারা। এই তথ্যের অভাব দূর করতেই তিনি কোডিং আর ম্যাপের সমন্বয়ে তৈরি করেছেন এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। কীভাবে কাজ করে এই অ্যাপ? ‘বিরিয়ানি দিবে’ অ্যাপটি মূলত একটি রিয়েল-টাইম লোকেশন ট্র্যাকিং সিস্টেমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এর কাজ করার ধরন অত্যন্ত সহজ ও কার্যকর: লাইভ লোকেশন আপডেট: এখানে যে কেউ চাইলে নির্দিষ্ট মসজিদের লোকেশন অ্যাড করতে পারেন। যদি কোনো এলাকায় কোনো বিশেষ মসজিদে বিরিয়ানি দেওয়ার খবর থাকে, তবে ব্যবহারকারীরা তা ম্যাপে যুক্ত করে দেন। ভেরিফিকেশন অপশন: খবরটি

কি গুজব নাকি সত্য? তা যাচাই করার জন্য অ্যাপটিতে ভেরিফাই করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এতে করে তথ্যের স্বচ্ছতা বজায় থাকে। ইউজার ইন্টারেকশন: সাধারণ ব্যবহারকারীরা অ্যাপে ঢুকে সরাসরি দেখতে পাবেন তাদের আশেপাশে কোথায় বিরিয়ানি দিবে। ফলে সময়মতো সেখানে পৌঁছে ইফতার বা তবারক সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হয়। বিরিয়ানি ও বাঙালির আবেগ কাগজে-কলমে আমরা মাছে-ভাতে বাঙালি হলেও বিরিয়ানির প্রতি আমাদের টান অবিচ্ছেদ্য। বাড়িতে রান্না করা বা দামি রেস্তোরাঁ থেকে কেনা বিরিয়ানির চেয়েও রমজান মাসে মসজিদের বিরিয়ানি কেন এত জনপ্রিয়? এর পেছনে রয়েছে কিছু সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ: তবারকের মাহাত্ম্য: মসজিদের বিরিয়ানিকে আমরা কেবল খাবার হিসেবে দেখি না, একে দেখি রহমত বা তবারক হিসেবে। সামাজিক বন্ধন: সবাই মিলে গোল হয়ে বসে মসজিদের

বারান্দায় বিরিয়ানি খাওয়ার আনন্দ রেস্তোরাঁর এসি রুমে পাওয়া অসম্ভব। স্মৃতিচারণ: শৈশবে বাবার হাত ধরে মসজিদে গিয়ে বিরিয়ানির প্যাকেটের জন্য অপেক্ষা করার স্মৃতি আমাদের অনেকেরই আছে। সেই আবেগকেই উসকে দিচ্ছে প্রিন্সের এই অ্যাপ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল এবং জনসচেতনতা গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে অ্যাপটি লাইভ হওয়ার পর থেকেই এটি নিয়ে মিম, রিলস আর ট্রলে সয়লাব ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম। মানুষ মজা করে একে বলছে ‘বাঙালির শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবন’। তবে মজার ছলে হলেও এর পেছনে রয়েছে এক অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা। বিশেষ করে তরুণ

কোথায় বিরিয়ানি দিবে

প্রজন্মের কাছে এটি এখন ইফতার বিনোদনের বড় অংশ। অনেকেই ভাবছেন, এই অ্যাপটি হয়তো শুধু বিরিয়ানি খাওয়ার জন্য। কিন্তু এর গভীর অর্থ হলো—প্রযুক্তিকে কীভাবে মানুষের ছোট ছোট ইচ্ছা বা আবেগের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া যায়। প্রিন্স দেখিয়েছেন যে, সাধারণ একটি আইডিয়াকেও যদি সঠিক কারিগরি জ্ঞান দিয়ে রূপ দেওয়া যায়, তবে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। ভবিষ্যতের সম্ভাবনা এই অ্যাপটি কেবল বিরিয়ানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে নাকি এর পরিসর আরও বাড়বে, তা সময়ের অপেক্ষা। তবে জুবায়েরের এই প্রচেষ্টা প্রমাণ করে যে আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা এখন শুধু বই-খাতায় সীমাবদ্ধ নেই। তারা বাস্তব জীবনের ছোটখাটো সমস্যাগুলোকেও প্রযুক্তির মাধ্যমে সমাধান করতে শিখছে। ‘বিরিয়ানি দিবে’ অ্যাপটি ব্যবহারের মাধ্যমে একদিকে যেমন খাবারের অপচয় কমতে পারে (যদি সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে মানুষ বণ্টনস্থলে যায়), অন্যদিকে এটি মানুষের মধ্যে একটি কমিউনিটি ফিলিং তৈরি করছে। ব্যবহারকারীরা একে

অপরের জন্য আপডেট দিয়ে সাহায্য করছেন, যা রমজানের ভ্রাতৃত্বের এক ডিজিটাল রূপ। উপসংহার শেষ কথা হলো, উৎসবের দিনে এক প্লেট বিরিয়ানি কেবল ক্ষুধা মেটায় না, এটি মানুষের মুখে হাসিও ফোটায়। আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের প্রিন্সের এই উদ্ভাবন সেই হাসিকে আরও সহজলভ্য করেছে। এখন আর কাউকে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াতে হবে না যে কোথায় বিরিয়ানি দিবে, বরং হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোনই বলে দেবে আজকের গন্তব্য। বাঙালির এই বিরিয়ানি প্রেম চিরন্তন, আর প্রযুক্তির এই মিশেল সেই প্রেমকে দিয়েছে এক আধুনিক মাত্রা। আপনিও যদি একজন বিরিয়ানি প্রেমী হন, তবে আজই দেখে নিতে পারেন আপনার আশেপাশে ‘বিরিয়ানি দিবে’ কোন মসজিদটি! আপনার জন্য পরবর্তী ধাপ: আপনি কি চান আমি আপনার এলাকার বর্তমান লোকেশন অনুযায়ী বিরিয়ানি পাওয়ার মতো পরিচিত জায়গাগুলোর একটি তালিকা তৈরি করে দিই? অথবা এই অ্যাপটি কীভাবে ডাউনলোড করবেন তা নিয়ে সাহায্য করি?

যে কেউ চাইলে এখানে ভিজিট করে এই বিরিয়ানি খাওয়ার সুযোগ পেতে পারে’। অ্যাপটি পাবেন এখানে:

https://biriyanidibe1.vercel.app/

,

Leave a Comment