আবহাওয়াপশ্চিমবঙ্গভারতচাকরিরাশিফলআইপিএলআধ্যাত্মিকটাকা পয়সাস্বাস্থ্যলাইফস্টাইলমিউচুয়াল ফান্ডব্যবসাঅন্যান্যশেয়ার বাজারটিভি সিরিয়াল

নেতানিয়াহু কি সত্যিই বেঁচে আছেন? যা বলছে ইরানি গণমাধ্যম

By newsdhaka

Published on: March 10, 2026

Follow Us

নেতানিয়াহু কি সত্যিই বেঁচে আছেন

---Advertisement---

নেতানিয়াহু কি সত্যিই বেঁচে আছেন? যা জানাল ইরানি গণমাধ্যম: সত্য না কি গুজব?

গত কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি প্রশ্ন বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে— ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কি বেঁচে আছেন? ইরানের কিছু গণমাধ্যম দাবি করছে তিনি গুরুতর আহত বা নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েল এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। আসলে পর্দার আড়ালে কী ঘটছে? চলুন জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।

ইরানি গণমাধ্যমের চাঞ্চল্যকর দাবি

ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, সাম্প্রতিক ইরানি হামলার পর নেতানিয়াহু গুরুতর আহত বা নিহত হয়ে থাকতে পারেন। তাদের এই দাবির পেছনে তারা মূলত তিনটি কারণ উল্লেখ করেছে:

১. বেশ কিছুদিন ধরে নেতানিয়াহুর নতুন কোনো ভিডিও বা সরাসরি উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

২. তার বাসভবনের আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অস্বাভাবিকভাবে জোরদার করা হয়েছে।

৩. পূর্বনির্ধারিত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সফর ও কর্মসূচি রহস্যজনকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বক্তব্য

অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্ট এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের মতে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার স্বার্থে শীর্ষ নেতাদের জনসম্মুখে উপস্থিতি কমিয়ে দেওয়া একটি স্বাভাবিক কৌশল। এটি মানেই এই নয় যে তিনি বড় কোনো দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।

যাচাইকৃত তথ্য কী বলছে?

গুজব ছড়ালেও বাস্তব তথ্য কিছুটা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে:

  • সরকারি উপস্থিতি: গত ৬ মার্চ নেতানিয়াহুকে বিয়ারশেবার একটি এলাকা পরিদর্শন করতে দেখা গেছে বলে বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা নিশ্চিত করেছে।

  • অফিসিয়াল বিবৃতি: ৭ মার্চ (২০২৬) তার কার্যালয় থেকে একটি দাপ্তরিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে।

  • প্রমাণহীন দাবি: এখন পর্যন্ত তাসনিম নিউজ বা অন্য কোনো পক্ষ নেতানিয়াহুর আহত বা নিহত হওয়ার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট ছবি বা ভিডিও প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।

কেন এমন জল্পনা?

সাধারণত দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা তুঙ্গে থাকলে একে অপরের বিরুদ্ধে ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ (Psychological Warfare) চালায়। তথ্য গোপন রাখা বা বিভ্রান্তি ছড়ানো এই যুদ্ধেরই একটি অংশ। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ তাসনিম নিউজকে আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট হিসেবে তালিকাভুক্ত করায়, অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন এটি ইসরায়েলি জনগণের মনোবল ভাঙার একটি কৌশল হতে পারে।

নেতানিয়াহুর মৃত্যু না কি নিছক গুজব? ইরান-ইসরায়েল সংবাদমাধ্যমের ‘তথ্যযুদ্ধ’ তুঙ্গে

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর শারীরিক অবস্থা। তিনি কি বেঁচে আছেন, না কি কোনো হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন? ইরানের একটি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের দাবি এবং ইসরায়েলের পাল্টা অবস্থান নিয়ে বিশ্বজুড়ে এখন চলছে তোলপাড়।

বিতর্কের সূত্রপাত: তাসনিম নিউজ এজেন্সির দাবি

ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, হিব্রু ভাষার বিভিন্ন সূত্রে নেতানিয়াহুর মৃত্যু বা গুরুতর আহত হওয়ার জল্পনা ক্রমশ বাড়ছে। তাদের প্রতিবেদনে এই সন্দেহের পেছনে ৫টি মূল কারণ বা ‘যুক্তি’ তুলে ধরা হয়েছে:

১. ভিডিওবার্তার অনুপস্থিতি: সাধারণত নেতানিয়াহু প্রতিদিন এক বা একাধিক ভিডিও বার্তা দিলেও গত তিন দিন ধরে তার কোনো নতুন ভিডিও প্রকাশিত হয়নি।

২. লিখিত বক্তব্যের আধিক্য: গত কয়েক দিন ধরে তার নামে যা প্রকাশ করা হয়েছে, তার সবই ছিল লিখিত বিবৃতি।

৩. নিরাপত্তা জোরদার: ৮ মার্চ থেকে নেতানিয়াহুর বাসভবনের চারপাশে ড্রোন হামলা মোকাবিলায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।

৪. বিদেশি সফর বাতিল: ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার এবং বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফের পূর্বনির্ধারিত ইসরায়েল সফর হঠাৎ বাতিল হওয়া।

৫. অস্পষ্ট ফোনালাপ: ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁর সাথে ফোনালাপের খবর প্রকাশ করলেও এলিসি প্রাসাদ সেই আলোচনার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ বা ছবি প্রকাশ করেনি।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের পাল্টা অবস্থান

এই খবরকে সরাসরি ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ এবং ‘গুজব’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইসরায়েলের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য জেরুজালেম পোস্ট। তাদের দাবি, ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো যুদ্ধকালীন সময়ে ইসরায়েলি জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য এই ভিত্তিহীন প্রচারণা চালাচ্ছে।

জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে এবং সামরিক কৌশলগত কারণে অনেক সময় রাষ্ট্রপ্রধানদের গতিবিধি ও উপস্থিতিতে গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়। এর মানে এই নয় যে তিনি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও ফ্যাক্ট চেকারদের পর্যবেক্ষণ

বিবিসি, সিএনএন বা আল জাজিরার মতো শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। তারা বিষয়টিকে এড়িয়ে চলছে কারণ কোনো পক্ষ থেকেই অকাট্য প্রমাণ মেলেনি। তবে কিছু ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বিষয়টি নিয়ে ‘ফ্যাক্ট চেক’ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে নেতানিয়াহুর আহত বা নিহত হওয়ার খবরের সপক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ এখন পর্যন্ত নেই।

বিশ্লেষণ: এটি কি প্রোপাগান্ডা?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান ও ইসরায়েলের এই লড়াই কেবল ড্রোন বা মিসাইলেই সীমাবদ্ধ নেই, এটি এখন ‘ইনফরমেশন ওয়ারফেয়ার’ বা তথ্যযুদ্ধে রূপ নিয়েছে। তাসনিম নিউজ এজেন্সি নিজেই স্বীকার করেছে যে, আনুষ্ঠানিকভাবে এই জল্পনার কোনো সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

গুরুত্বপূর্ণ নোট: বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কোনো অসমর্থিত হিব্রু বা পার্সিয়ান সূত্র থেকে আসা তথ্যকে ধ্রুব সত্য বলে ধরে নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।

আপনার দেওয়া নতুন তথ্য এবং ফ্যাক্ট-চেক বিশ্লেষণ করে একটি স্বচ্ছ ও বস্তুনিষ্ঠ আর্টিকেল নিচে দেওয়া হলো। এটি পাঠকদের বিভ্রান্তি দূর করতে এবং আপনার ওয়েবসাইটের নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে সাহায্য করবে।


নেতানিয়াহুর ভাই ও বেন-গভির কি ইরানি হামলায় নিহত? ভাইরাল খবরের পেছনের আসল সত্য

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে পুঁজি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর দাবি। সম্প্রতি ফেসবুক ও এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ছড়িয়ে পড়া একটি খবর বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে— ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাই ইদ্দো নেতানিয়াহু এবং বিতর্কিত মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির কি ইরানি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন?

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই দাবিগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং পরিকল্পিত গুজব। নিচে এর বিস্তারিত সত্য তুলে ধরা হলো:

ভাইরাল হওয়া দাবিটি কী?

সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে ইরানের প্রতিশোধমূলক বিমান হামলায় প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ভাই ইদ্দো নেতানিয়াহু নিহত হয়েছেন। একই হামলায় ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তার বাসভবনে আগুন লেগেছে বলে অভিযোগ করা হয়।

ফ্যাক্ট-চেক: আসলে কী ঘটেছিল?

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এবং বিভিন্ন ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দাবিগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা।

১. ইদ্দো নেতানিয়াহুর মৃত্যু সংবাদ: প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ভাই ইদ্দো নেতানিয়াহুর ওপর কোনো হামলা বা তার মৃত্যুর কোনো দাপ্তরিক সংবাদ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ইসরায়েলি বা আন্তর্জাতিক কোনো নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যম এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

২. ইতামার বেন-গভিরের ‘আহত’ হওয়ার রহস্য: গুজব ছড়ানো হচ্ছে যে, বেন-গভির ইরানি হামলায় আহত হয়েছেন কিন্তু ইসরায়েলি মিডিয়া একে ‘গাড়ি দুর্ঘটনা’ বলে ধামাচাপা দিচ্ছে। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো, বেন-গভিরের গাড়ি দুর্ঘটনার খবরটি বর্তমানের নয়, বরং ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসের। সে সময় ইসরায়েলের রামলেতে তার গাড়ি উল্টে তিনি ও তার মেয়ে সামান্য আহত হয়েছিলেন। পুরনো সেই খবর এবং ছবিকেই এখন ইরানের হামলার ফলাফল হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

কেন ছড়ানো হচ্ছে এই গুজব?

তথ্য বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষ দেশের জনগণের মনোবল ভাঙতে এবং আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তি তৈরি করতে এ ধরনের ‘ফেক নিউজ’ বা ভুয়া খবর অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে অখ্যাত কিছু সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে এসব তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে।

উপসংহার

সবশেষে এটি নিশ্চিত যে, ইদ্দো নেতানিয়াহু বা ইতামার বেন-গভিরের মৃত্যু বা বড় কোনো দুর্ঘটনার খবরটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে কেবলই একটি অনলাইন প্রোপাগান্ডা। কোনো তথ্য শেয়ার করার আগে মূলধারার সংবাদমাধ্যমের সাথে তা যাচাই করে নেওয়া জরুরি।

উপসংহার

সব মিলিয়ে, নেতানিয়াহুর মৃত্যু বা আহত হওয়ার খবরটি এখন পর্যন্ত শুধুই একটি অসমর্থিত জল্পনা। নির্ভরযোগ্য কোনো আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা বা গোয়েন্দা সংস্থা এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি। বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, তিনি জীবিত এবং দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত রয়েছেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

, , , , , , , , , , , ,

Leave a Comment