টানা ভারী বৃষ্টি আর উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের ৯টি জেলায় আ’কস্মিক ব’ন্যার আ’শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এসব জেলার নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
রোববার (২৮ জুন) পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত এক বিশেষ স’তর্কবার্তায় এই তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনটি থেকে প্রাপ্ত মূল তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি বিস্তারিত প্রতিবেদনটি নিচে দেওয়া হলো:
দেশের ৯ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস: দ্রুত বাড়ছে নদ-নদীর পানি
সারাদেশে কয়েক দিন ধরে চলা টানা ভারী থেকে অতি ভা’রী ব’র্ষণ এবং ভা’রতের পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি আ’শঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বিশেষ সতর্কবার্তা অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে অন্তত ৯টি জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি ব’ন্যা ও প্লাবনের সৃষ্টি হতে পারে।
ইতিমধ্যেই সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশনে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা বন্যা পরিস্থিতির প্রাথমিক ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ঝুঁ’কিতে থাকা জেলা ও নদ-নদীর বর্তমান পরিস্থিতি
পাউবোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৩ থেকে ৫ দিনের মধ্যে দেশের দুটি প্রধান অববাহিকায় পানি বি’পদসীমা বা সতর্কসীমা অতিক্রম করতে পারে:
উত্তরবঙ্গ (আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে): নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে কয়েকটি পয়েন্টে বিপদসীমা অ’তিক্রম করার প্রবল আ’শঙ্কা রয়েছে।উত্তর-পূর্বাঞ্চল (আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে): সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এর ফলে এই দুই জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হবে।ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকা (১ জুলাই থেকে ৩ জুলাই): আগামী মাসের শুরুতে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। এর প্রভাবে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও নতুন করে প্লাবনের শ’ঙ্কা রয়েছে।
বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, স্থানীয় ভারী বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এই পানি বৃ’দ্ধির মূল কারণ। পরিস্থিতি বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর নদী তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সার্বক্ষণিক স’তর্ক থাকার এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।