পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর আমল সমূহ নিয়ে বিস্তারিত লেখা হলো
আজ আমরা আলোচনা করবো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর আমল। মুসলমানদের জন্য দৈনিক ৫ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হইছে। ইসলামের মোট ৫ টি ভিত্তির মধ্যে নামাজ একটি। এই নিয়মিত নামাজের মাধ্যমে যেমন আল্লাহর হুকুম আদেশ মান্য করা হয় তেমনি আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়। নামাজ বেহেস্তের চাবিকাঠি। নামাজ ছাড়া বেহেস্ত লোভ করা সম্ভব না। নিয়মিত নামাজ আদায় করার ফজিলত ও গুরুত্ব অনেক বেশি।
মুসলমান যখন নিয়মিত নামাজ আদায় করে তখন তার কাছে ইসলামের অন্যান্য বিধি নিয়ম পালন করা অধিক সহজ হয়ে যায়। সঠিক সময় নিয়মিত নামাজ না পড়লে আল্লাহ ও বান্দার মধ্যে অধিক দূরত্ব তৈরী হয়। ফলে শয়তানের প্ররোচণায় পরে অনেক পাপ কাজ করতে থাকে। তাই মুসলমান নিয়মিত নামাজ আদায় করে আল্লাহ এর সাহায্য চায় আল্লাহ তখন বান্দাকে সাহায্য করে। ফলে বান্দা পাপ কাজ থেকে দূরে থাকে।
একমাত্র আমাদের প্রিয় নবী ও অন্যান্য রাসূল ছাড়া জান্নাতের গ্যারান্টি নাই। তবে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১০ জন ও আরও কয়েকজনকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। তবে কেউ যদি নিয়মিত নামাজ পরে এই একটি আমল করতে থাকে তবে মৃত্যু ছাড়া তার জান্নাতের যাওয়ার পথে আর কোনো বাধা নাই।
নামাজ পড়ার ফজিলত বলে শেষ করা যাবে না। আর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর আমল সমূহ অধিক গুরুত্বপূর্ণ। ফরজ নামাজের পর অনেকে সুন্নতের জন্য দাঁড়িয়ে যায় আবার অনেকে মসজিদ থেকে বাড়িয়ে যায় অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর জীবনে আমাদের শিখিয়েছেন, ফরজ নামাজ শেষে কিছু ছোট ছোট আমল আছে.রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে ফরজ নামাজের পরে এই দোআ গুলা আমল করতেন এবং আমাদের আমল করতে শিখিয়ে গিয়েছেন।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পূর্বে আমল সমূহ
শুধু নামাজের শেষে আমল আছে তাই নয় নামাজের শুরুতে কিছু আমল আছে। আর ইসলামী নিয়মনুযায়ী যে যত আমল করে তার আমল নামায় ততো সওয়াব লেখা হয়। তাই নিচে নামাজের পূর্বে আমলসমূহ লেখা হলো।
আজানের জবাব দেওয়া : নামাজের পূর্বে আজানের সময় আজানের জবাব দেওয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আজানের জবাব সম্পর্কে স্পষ্ট হাদিস বর্ণনা করেছেন। যারা আজানের জবাব দেওয়ার পরে আল্লাহ এর কাছে যে দোআ করেন আল্লাহ কোনো দোয়াই ফেরত দেয় না ,আলহামদুলিল্লাহ।
অন্য এক হাদিসে স্পষ্ট ভাবে আসছে মুয়াজ্জিনের সঙ্গে সঙ্গে যে ব্যাক্তি আজানের শব্দগুলা বলবে সে জান্নাতে যাবে।
আজানের আগেই নামাজের প্রস্তুতি নিয়ে আজানের জবাব দেওয়া ও উত্তম রূপে ওযু করে নামাজের জন্য অপেক্ষা করা। এইরূপ যতক্ষণ ওযু অবস্থায় থাকা হয় ততক্ষন ফেরেস্তারা সাওয়াব লিখতে থাকে।
নফল নামাজ : মসজিদে ঢুকে ২ রাকাত নফল নামাজ পরে নিতে পারেন। অতিরিক্ত সাওয়াবের আসায় এই আমল করতে পারেন।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর আমল সমূহ
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর আমল সমূহ নিচে বিস্তারিত লেখা হলো। মনোযোগ দিয়ে এই আমল সমূহ পড়তে পারেন ও আমল করতে পারেন এতে অধিক সাওয়াব অর্জন করতে পারবেন ইনশাল্লাহ।
১) ফরজ নামাজের পর পরই রাসুলুল্লাহ (সা.) ৩ বার পড়তেন ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ এর পর এক বার পড়তেন আল্লাহুআকবর। এই ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ শব্দের অর্থ ‘হে আল্লাহ, আমি তোমার নিকট ক্ষমা চাই।’আমরাও নামাজ শেষে এই আমল করতে পারি ৩ বার ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ ও এক বার আল্লাহুআকবর। এতে নামাজের মধ্যে যদি কোনো ভুল ভ্রান্তি হয়ে থাকে আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করে দেন। আলহামদুলিল্লাহ
২) এরপরে আয়াতুল কুরসী পড়তে পারেন। আয়াতুল কুরসী ফজিলত অনেক গুরুত্বপূর্ণ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে ব্যাক্তি ফরজ নামাজের পর নিয়মিত আয়াতুল কুরসী পাঠ করে ওই ব্যাক্তির জান্নাতে যাওয়ার পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকবে না ,সুবহানাল্লাহ। তাই নিয়মিত আয়াতুল কুরসী পাঠ করতে পারেন। আয়াতুল কুরসী জান্নাতে যেতে সহজ করে দিবে।
আরো পড়ুন : মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নিয়োগ
৩) ৫ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ শেষে নিয়মিত ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ, ৩৩ বার আল্লাহু আকবার পড়তে পারেন এর পরে এক বার ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির’, পরে মোট ১০০ পাঠ করতে পারেন।
এই ১০০ বার পাঠ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন যে ব্যাক্তি প্রতি ফরজ নামাজের পরে ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ, ৩৩ বার আল্লাহু আকবার এবং এক বার ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির’ পাঠ করবে তার গুনাহ যদি সমুদ্রের ফ্যানার মতো হয় তাকে আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন ,সুবহানাল্লাহ।তাই নিয়মিত ফরজ নামাজের পরে এই আমল করতে ভুলবেন না। এতে করে আল্লাহ আমাদের গুনাহ ক্ষমা করে দিতে পারেন।

৪ ) দুরুদ শরীফ পাঠ করতে পারেন। দুরুদ শরীফের অনেক ফজিলত আছে। ফরজ নামাজ শেষে ১০ বার দুরুদ শরীফ পাঠ করতে পারেন। এই বিষয় নবীজি (সা.) এর সুপারিশ পাবেন। হাদিসে ছোট বড় মিলে বেশ কয়েকটি দুরুদ আছে। আপনারা চাইলে ছোট দুরুদ পড়তে পারেন।
৫ ) ফজর ও মাগরিবের নামাজের পরে ৭ বার পড়তে পারেন “আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান নার” (اللَّهُمَّ أَجِرْنِى مِنَ النَّارِ) .এতে যদি ওই ব্যাক্তি দিনে বা রাতে মারা গেলে আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করবেন ,সুবানাল্লাহ (আবু দাউদ হাদিস ,৫০৮০)
৬) নবীজি (সা.) নিয়মিত ৩ কুল পড়তেন। ৩ কুল হলো সূরা ইখলাস ,সূরা ফালাক ,সূরা নাছ ,তিনি বলেন এই ৩ কুল পড়লে আর কিছু দরকার হবে না।
৭) ফজর ও মাগরিবের নামাজের পরে ৩ বার পড়তে পারেন “রাদিতু বিল্লাহি রাব্বা, ওয়াবিল ইসলামি দ্বীনাও, ওয়াবি মুহাম্মাদিন নাবিয়া” রাসুল (সা.) এই দোআ পড়তে বলেছেন। এটা পড়লে রাসুল (সা.) হাত ধরে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, আল্লাহ উক্ত ব্যক্তিকে সন্তুষ্ট করবেন।
(ইবনে আবি শাইবা, হাদিস : ৩৬/৩৬)
৮) اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلاَمُ وَمِنْكَ السَّلاَمُ تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ
“আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম, ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারকতা ইয়াযাল জালালি ওয়াল ইকরাম।”
(অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি শান্তি দাতা। শান্তি অবতীর্ণ হয় আপনার পক্ষ থেকেই। আপনি মহত্ব ও মর্যাদার অধিকারী)।ফরজ নামাজের শেষে এই দোয়া পড়তে পারেন
৯) নামাজ শেষে কোনো কাজ না থাকলে অবসর সময়ে কুরআন তেলোয়াত করতে পারেন। কুরআন তেলোয়াত করার মাধ্যমে অধিক সওয়াব অর্জন করতে পারেন।
১০ ) সকালে ফজরের নামাজ শেষে ও সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজ শেষে ৩ বার আউযু বিল্লাহিস সামীয়িল ‘আলীমি মিনাশ শাইতানির রাজীম পড়ার পর ৩ বার সূরা হাশরের শেষের ৩ আয়াত পড়তে পারেন এতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৭০০০০ ফেরেস্তা তাকে নিরাপত্তা দেয় আর সন্ধ্যায় পড়লে সারা রাতে ৭০০০০ ফেরেস্তা তাকে নিরা পাত্তা দেয়। এই দোয়ার আরো ফজিলত আছে। সকালে ফজরের নামাজ শেষে পাঠ করলে সারাদিনে যদি ওই ব্যাক্তি মারা যায় তবে সে শহীদি মৃত্যু পায়। আর সন্ধ্যায় পাঠ করলে রাতে মারা গেলে সে শহীদি মৃত্যু পায়। তাই সকাল সন্ধ্যা এই দোআ পড়তে পারেন।
উপরে সুন্দর ভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর আমল সমূহ আলোচনা করা হলো। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ শেষে দুনিয়ার কাজে বের না হয়ে নিয়মিত এই সব আমল করতে পারেন। নিয়মিত এই সব আমল করলে পূর্বের গুনাহ সমূহ আল্লাহ চাইলে মাফ করতে পারেন ,আল্লাহ রহমত বর্ষণ করতে পারেন ,নবীজ (সা.) এর সুপারিশ পেতে পারেন। অবসর সময় ও নামাজ শেষে এই সব আমল করলে শয়তানের অস অসা থেকে আল্লাহ এর সাহায্য পেতে পারেন। এবং মৃত্যু শেষে জান্নাত পেয়ে যেতে পারেন।এই সব আমল করতে বেশি সময় দরকার হয় না খুব অল্প সময় এই আমল যায়। এর পরে দুনিয়াবী কাজ পারেন। এই আমল সমূহ আল্লাহ এর কাছে অধিক পছন্দনীয়।






Leave a Comment