লালমনিরটহাট থেকে লক্ষ্মীপুরে আনার পথে যাত্রীবাহী বাসের বক্সের ভেতরে দম বন্ধ হয়ে ৫৫টি ছাগলের নির্মম মৃ’ত্যু হয়েছে। এমন নি’ষ্ঠুর আ’চরণের দায়ে বাসের সুপারভাইজার আবুল হাশেম ও ছাগল ব্যবসায়ী মো. ফারুককে জ’রিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আ’দালত।
শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যায় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যা’জিস্ট্রেট ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, দুপুরে তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে হাশেম ও ফারুককে ১০ হাজার টাকা জ’রিমানা করেন।
দ’ণ্ডপ্রা’প্তদের মধ্যে হাশেম লালমনিরহাট জেলার সাপটানা এলাকার মৃ’ত খায়ের উল্যার ছেলে ও ফারুক লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার টুমচর গ্রামের মো. খোকনের ছেলে। হাসেম বাসের সুপারভাইজার ও ফারুক ছাগল ব্যবসায়ী।
ছাগল মালিক ও উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, লালমনিরহাট থেকে শুক্রবার (২৭ মার্চ) দিবাগত রাতে আনিন্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের বক্সের ভেতর গাদাগাদি করে ফারুক ৪৭টি ছাগল লক্ষ্মীপুরে নিয়ে আসে। একইসঙ্গে নোয়াখালীর এক ব্যবসায়ীর ৮টি ছাগলও আনা হয়। ৫৫টি ছাগল বাসের বক্সে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছিল। এতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে তী’ব্র গরম ও পর্যাপ্ত বাতাসের অভাবে ছাগলগুলো দমব’ন্ধ হয়ে মা’রা যায়। এ ঘ’টনায় ফারুক বাসচালক ও সুপারভাইজারের ওপর ক্ষি’প্ত হয়ে উঠেন। একপর্যায়ে ফারুক বিষয়টি সদর মডেল থানা-পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ দুই পক্ষকেই সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে সোপর্দ করে। এ ঘ’টনায় ছাগলের প্রতি নির্দয় এবং নি’ষ্ঠুর আচরণের দায়ে ইউএনও ভ্রাম্যমাণ আ’দালতের মাধ্যমে দুইপক্ষকে ১০ হাজার টাকা জ’রিমানা করেন।
ছাগল ব্যবসায়ী মো. ফারুক বলেন, লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা থেকে আমার বাবা ছাগলগুলো কিনে বাসে করে লক্ষ্মীপুরে পাঠিয়েছেন। প্রায় ২ বছর ধরেই এভাবে বাসের বক্সে করে আমরা ছাগল নিয়ে আসছি। প্রতি ছাগলের জন্য ৩০০ টাকা ভাড়া নেয় বাস কর্তৃপক্ষ। কখনো কোনো ছাগল মা’রা যায়নি। কিন্তু এবার বাসচালক ও সুপারভাইজারের অবহেলার কারণে ছাগলগুলোর মৃ’ত্যু হয়েছে। এতে আমাদের প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষ’তি হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের বি’রুদ্ধে আ’ইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাসের সুপারভাইজার আবুল হাসেম বলেন, ৫৫টি ছাগল লালমনিরহাট থেকে এনেছি। এরমধ্যে ফারুকের ৪৭টি ও নোয়াখালীর এক ব্যবসায়ীর ৮টি ছাগল ছিল। পথে ছাগলগুলো ভালোই ছিল। কিন্তু নোয়াখালীর চৌরাস্তায় এসে ৮টি ছাগল নামানোর সময় দেখি সবগুলো ম’রে পড়ে আছে।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের ভেটেরিনারি সার্জন সোহেল রানা বলেন, পর্যাপ্ত বাতাসের অভাবে গরমে দম বন্ধ হয়ে সবগুলো ছাগল মা’রা গেছে। ছাগলগুলোর প্রতি নি’ষ্ঠুর আ’চরণ করা হয়েছে। এ অ’পরাধে ভ্রাম্যমাণ আ’দালত বাসের সুপারভাইজারের ৫ হাজার ও ছাগল ব্যবসায়ীর ৫ হাজার টাকা জ’রিমা’না করেছেন। ভবিষ্যতের জন্য উভয়পক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে। মৃ’ত ছাগলগুলোকে মাটিতে পুঁ’তে ফেলার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।




Leave a Comment