আহমেদাবাদে বুধবার আফগানিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচটি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত রোমাঞ্চে ভরপুর ছিল। নির্ধারিত সময়, নো বল, রান আউট এবং টানা দুই সুপার ওভারের উত্তেজনা শেষে শেষ পর্যন্ত জয় পায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
১৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শেষ ওভারে আফগানিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১৩ রান, হাতে মাত্র ১ উইকেট। কাগিসো রাবাদার করা প্রথম বলটি লোয়ার ফুলটস ছিল। নুর আহমেদ শট খেললে কাভারে ক্যাচ নেন আইডেন মার্করাম। দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড়রা উদ্যাপন শুরু করলেও আম্পায়ার নো বলের সংকেত দেন, কারণ রাবাদার পা লাইন অতিক্রম করেছিল। ফলে আফগানিস্তান ম্যাচে টিকে যায়।
পরের বলেই ছক্কা মারেন নুর আহমেদ। রাবাদা আরও একটি নো বল করেন। একপর্যায়ে আফগানিস্তানের জয়ের জন্য ৩ বলে প্রয়োজন হয় ২ রান। তবে চতুর্থ বলে দুই রান নিতে গিয়ে রান আউট হন ফজল হক ফারুকি। ততক্ষণে দলটির স্কোর দাঁড়ায় ১৮৭। ফলে ম্যাচ টাই হয়ে যায় এবং গড়ায় সুপার ওভারে।
প্রথম সুপার ওভারে লুঙ্গি এনগিডির করা ওভারে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৭ রান তোলে আফগানিস্তান। ১৮ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে ডেভিড মিলার প্রথম বলে সিঙ্গেল নেন। পরের বলেই ডিওয়াল্ড ব্রেভিস ছক্কা মারেন। তবে তৃতীয় বলে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তিনি। শেষ পর্যন্ত সমীকরণ দাঁড়ায় শেষ বলে ৭ রান। ত্রিস্তান স্তাবস ছক্কা মেরে প্রথম সুপার ওভারও সমতায় শেষ করেন।
দ্বিতীয় সুপার ওভারে আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের করা ওভারে স্তাবস ও মিলার মিলে ৩টি ছক্কায় ২৩ রান তোলেন। ২৪ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে কেশভ মহারাজের দ্বিতীয় বলেই উইকেট হারায় আফগানিস্তান। ৪ বলে প্রয়োজন ছিল ২৪ রান। রহমানউল্লাহ গুরবাজ টানা ৩ বলে ৩টি ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা বাড়ান। একটি ওয়াইডের পর শেষ বলে দরকার ছিল ৫ রান। কাট শট খেলতে গিয়ে পয়েন্টে ক্যাচ দেন গুরবাজ। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ রানে জয় নিশ্চিত করে।
এর আগে নির্ধারিত ২০ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা ৬ উইকেটে ১৮৭ রান তোলে। কুইন্টন ডি কক ৪১ বলে ৫৯ এবং রায়ান রিকেলটন ২৮ বলে ৬১ রান করেন। জবাবে রহমানউল্লাহ গুরবাজের ৪২ বলে ৮৪ রানের ইনিংস এবং শেষ দিকে রাশিদ খান ও নুর আহমেদের দ্রুত রান ম্যাচকে সুপার ওভারে নিয়ে যায়। টি-টোয়েন্টিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে চতুর্থ দেখাতেও জয় ধরে রাখল দক্ষিণ আফ্রিকা।
শেষ মুহূর্তে দম বন্ধ করা নাটক দেখাল দুই দল!
---Advertisement---





Leave a Comment