বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আজীবন সদস্য, কিংবদন্তি অভিনেতা ও বিশিষ্ট নৃত্য পরিচালক চিত্রনায়ক জাভেদ আর নেই। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হ’ঠাৎ অসুস্থতা ও মৃ’ত্যু
সনি রহমান জানান, হঠাৎ করে চিত্রনায়ক জাভেদ-এর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি শেষ নিঃ’শ্বাস ত্যা’গ করেন। এ সময় সবার কাছে তার জন্য দোয়া চেয়েছেন শিল্পী সমিতির এই সদস্য।
দীর্ঘদিনের অ’সুস্থতা
জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে ঘরবন্দি ছিলেন চিত্রনায়ক জাভেদ। তিনি দীর্ঘদিন ক্যা’নসারে আ’ক্রান্ত ছিলেন। এর আগে তিনি ব্রেইন স্ট্রো’ক করেন। গত বছরের এপ্রিলে গুরুতর অ’সুস্থ হয়ে উত্তরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে কিছুটা সুস্থ হলে বাসায় ফেরেন।
২০২০ সালের ৪ এপ্রিল মূত্রনালির জ’টিলতায় আ’ক্রান্ত হলে তার অ’স্ত্রোপচার হয়। এরপর থেকেই কখনো ভালো, কখনো খা’রাপ—এভাবেই চলছিল তার জীবনসংগ্রাম। শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন এই জনপ্রিয় অভিনেতা।
ক্যারিয়ার ও জনপ্রিয়তা
ষাটের দশকে নৃত্যপরিচালক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও পরবর্তীতে অভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন চিত্রনায়ক জাভেদ। সত্তর ও আশির দশকে পোশাকি সিনেমায় নায়ক হিসেবে তিনি ছিলেন নির্মাতাদের চাহিদার শীর্ষে।
তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে— মালকা বানু, অনেক দিন আগে, শাহাজাদা, রাজকুমারী চন্দ্রবান, সুলতানা ডাকু, আজো ভুলিনি, কাজল রেখা, সাহেব বিবি গোলাম, নিশান, বিজয়িনী সোনাভান, রূপের রাণী, চোরের রাজা, জালিম, চন্দন দ্বীপের রাজকন্যা, বাহারাম বাদশা।
শেষ কাজ
চিত্রনায়ক জাভেদ-এর সর্বশেষ অভিনীত সিনেমা ছিল ‘মা বাবা সন্তান’। এরপর আর ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো হয়নি তার। কাজের আগ্রহ থাকলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রুপালি পর্দার এই জনপ্রিয় নায়ক জীবনের নানা রঙ হারিয়েছেন।






Leave a Comment