বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে চীনের হোটেলগুলোতে স্থাপিত গো’পন ক্যামেরার মাধ্যমে অতিথিদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত সরাসরি সম্প্রচার ও বিক্রির এক বিশাল চক্রের তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে ‘একেএ’ (AKA) নামে পরিচিত এক এজেন্টের সন্ধান পাওয়া গেছে, যে এই পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করে।
সরাসরি সম্প্রচার ও গ্রাহক ফি এজেন্ট ‘একেএ’ একটি বিশেষ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে একই সাথে ১৮০টিরও বেশি হোটেল কক্ষের সরাসরি দৃশ্য দেখার সুযোগ করে দিত। এই সেবা পেতে গ্রাহকদের প্রতি মাসে ৪৫০ ইউয়ান (প্রায় ৭,৫০০ টাকা) সাবস্ক্রিপশন ফি দিতে হতো। অবাক করার বিষয় হলো, হোটেলের ঘরে অতিথিরা যখন তাদের রুম কার্ডটি স্লটে ঢোকান, ঠিক তখনই বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার সাথে সাথে গো’পন ক্যামেরাগুলো সক্রিয় হয়ে উঠত।
টেলিগ্রাম ও বিপণন নেটওয়ার্ক ওয়েবসাইটে সরাসরি দেখার পাশাপাশি অতিথিদের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তগুলো ভিডিও করে টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রুপে বিক্রি করা হতো। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রের অধীনে থাকা টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রায় ১০,০০০ সদস্য রয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে শুরু করে এই নেটওয়ার্কে ৬,০০০-এর বেশি এডিটেড ভিডিও ক্লিপ জমা করা হয়েছে।কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতা হংকংভিত্তিক এনজিও ‘রেইনলিলি’ (RainLily)-র প্রতিনিধি ব্লু লি জানান, ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া এ ধরনের গো’পন ভিডিও অপসারনের জন্য তাঁদের কাছে প্রতিনিয়ত অনুরোধের সংখ্যা বাড়ছে। তবে ভিডিও ডিলিট করার অনুরোধে টেলিগ্রাম কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে খুব একটা সাড়া পাওয়া যায় না। বিবিসির অনুসন্ধানী দল টেলিগ্রামকে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দিলেও তারা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।সরকার সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ চীনের হোটেলে গোপন ক্যামেরা শ’নাক্ত করতে কড়া আইন ও তল্লাশির বিধান থাকলেও এই অবৈধ ব্যবসা বছরের পর বছর ধরে নির্বিঘ্নে চলছে। বিবিসির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, একটি ক্যামেরা সরিয়ে ফে’লার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেখানে নতুন আরেকটি ক্যামেরা বসিয়ে ফিড চালু করে দেওয়া হয়। এই সু’শৃঙ্খল অপরাধ নেটওয়ার্ক এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, প্রভাবশালী কোনো গোষ্ঠী বা প্রশাসনের একাংশের যোগসাজশে কোটি কোটি টাকার এই বাণিজ্য পরিচালিত হচ্ছে।





Leave a Comment